হোম ব্যক্তিত্ব এসএইচ সোহেল দেশদ্রোহী নাকি ধর্মান্ধতা? – কোনটির দিকে আপনি পা রেখেছেন?

দেশদ্রোহী নাকি ধর্মান্ধতা? – কোনটির দিকে আপনি পা রেখেছেন?

46

দেশদ্রোহী নাকি ধর্মান্ধতা? – কিছুদিন আগের কথা। এক বড় ভাই আমাকে এভাবে বলছেন ,-“স্রষ্টা’র তত্ত্বটি দে তো।” আমি উত্তরে জানতে চাইলাম, “কিভাবে দিবো?” তারপর উনি বললেন, “ভাবার্থ বা সারমর্ম।” আমি উত্তর দিলাম এককথায়। “স্রষ্টা হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা।””বাকিটুকু আপনি নিজের থেকে যেভাবে সৃষ্টিকর্তাকে মানেন বুঝেন।”

দেশদ্রোহী নাকি ধর্মান্ধতা?

উনি হলেন অন্য ধর্মের অনুসারী। আমাদের ধর্মের দিক থেকে উনি বিধর্মী। আমিও ঠিক তেমনি উনার দিক থেকে। আমি চাইলে উনার সাথে বির্তক সৃষ্টি করতে পারতাম। উনি কি আমার সাথে বির্তক করতে চেয়েছিলেন কি না সেটা আজ পর্যন্ত সন্ধিহীন। উনি না চায়লেও আমি কিন্তু চাইলে পারতাম। ধর্ম এমন একটি জিনিস যদি চান মারাত্মক বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে। যার ফলাফল ভয়াবহ। ধর্ম ভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার বেড়াজালে পাক- ভারত বিভক্ত ঘটে ১৯৪৫ সালে। পরবর্তীতে আমরাও পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে গেলাম বায়ান্নের রেশ ধরে ১৯৭১ সালে। যা আপনাদের সবার জানা আছে সঠিকভাবে। তাই তো মহামানব হযরত মুহাম্মদ (স:) বলেছেন ,”তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না।” এই কথা দ্বারা সুস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে যার ধর্ম তাকে পালন করতে দাও। কিন্তু বর্তমান যুগে কিছু ধর্মীয় কুসংস্কারচ্ছন্ন মানুষ ধর্মকে উপজীব্য করে পৃথিবীতে তান্ডব চালাচ্ছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসার কিছুদিন আগে মেসের এক বড় ভাই আমাকে বলে জঙ্গি নাকি মুসলিম! আমার মনে হয় উনি আমাকে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। আমার মস্তিষ্ক টগবগ করতে শুরু করে। কারণ আমি মুসলিম। আমরা এক ঈশ্বরবাদী। তারপরও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি কথায় বলেছিলাম যে এটা পাকিস্তানও না এটা ভারতও না। এটা কেবল বাংলাদেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ এক ই সাথে গলাগলি করে বাঁচে। বাঁচতে শিখেছে। আপনার আমার ইতিহাস এটাই সাক্ষী দেয়। তাই কথা মূর্খের মতো বলবেন না।

আরেক বড় ভাইকে দেখলাম সারাদিন শুধু ভারত ভারত করে। ভারত আমাদের তুলনায় অনন্য। একদিন আমি তার কথায় বাধা দিয়ে বলেছিলাম -” আপনি যে দেশের মাটি বাতাস খেয়ে বড় হয়েছেন তার বদনাম সহ্য করা যায় না। আপনি চায়লে এগুলো অস্বীকার করতে পারেন না। পারলে জায়গা জমিন বিক্রি করে ঐদেশে চলে যান। না হয় এদেশের মানুষ দেশবিরোধী সাইনবোর্ড ধরিয়ে দিবে।”

আরেকজন একদিন আমাকে বলেন -“বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ না করে সমঝোতা করতে পারতো।” এই কথা শুনে মাথা আরো খারাপ হবার উপক্রম। আমি উনাকেও বলেছিলাম – “ইতিহাস না জেনে মূর্খের মতো কথা বলবেন না। তাহলে রাজাকারের সাইনবোর্ড ধরিয়ে দিবে।”

আসলে এদের কারো দোষ আমি দিচ্ছিনা। কারণ তারা উপযুক্ত শিক্ষা পাননি বলে এ দশা। তাদের পরিবার বা তাদের পরিবেশ তাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছে তাদের প্রতিফলন। তারা সবসময় শোনা কথায় বিশ্বাসী। এটা নিয়ে আমাদের দুঃখ করার উচিত। বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন-“এখন আমরা বহিঃশত্রু মুক্ত কিন্তু আমাদের মধ্যে শত্রুতা রয়ে গেছে।” উনার উক্তির যথার্থতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য উপরোক্ত কয়েকটি উদাহরণ যথেষ্ট।

আর যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ও বোমাবাজি করে তাদের আর যায় থাকুক অন্তত তাদের কোনো ধর্ম নেই। আর আমাদের দেশে মুসলিম , হিন্দু , খ্রিস্টান , বৌদ্ধ সবাই একসাথে মিলেমিশে বসবাস করি। এটা সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে স্রষ্টার অপার মহিমা। এটা নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি না করে হাতে হাত মিলিয়ে চলুন। তাহলে বোমাবাজির মতো জঙ্গি সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হবে না।
লেখক : Sakhawat Hossain Sohel

#ভুল -ভ্রান্তিতে ক্ষমা প্রার্থী।

আরো পোস্ট দেখতে পারেন:

  1. প্রাথমিক শিক্ষক প্রস্তুতি
  2. ব্যাংক জব প্রস্তুতি
  3. বিসিএস প্রস্তুতি
  4. প্রতি মাসের সাধারণ জ্ঞান 
  5. চাকরির খবর
  6. যেকোনো শ্রেণির গণিত সাজেশান 

কপিরাইট পলিসি: আমাদের কিছু সংখ্যক পোস্টগুলো অনলাইনের প্লাটফর্ম থেকে সংগ্রহিত। এর মধ্যে আমাদের একটি সৎ উদ্দেশ্য আছে । তাহলো আমরা চাচ্ছি সব কিছু যে এক জায়গায় পাওয়া যায়। তাছাড়া এগুলোর মধ্যে কোনো কোন পোস্ট যদি কেউ নিজের সম্পত্তি মনে করেন তা অবশ্যই যথোপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে । ধন্যবাদ।