হোম পরীক্ষার প্রস্তুতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এর ইংরেজি সিলেবাস

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এর ইংরেজি সিলেবাস

41


বিগতবছরগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে বাতিল হয়েছিল কয়েকটি জেলার লিখিত পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে মেধাবী প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সনাতন পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে প্রশ্ন ব্যাংক। সেখান থেকে বাছাই করে তৈরি করা হবে ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের ৯ সেট প্রশ্ন। প্রতিটি সেটে প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ভিন্ন হবে। পরীক্ষার দিন সকালে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় প্রশ্ন পাঠানো হবে। ম্যাজিস্ট্রেটেরউপস্থিতিতে এক কপি প্রশ্ন প্রিন্ট করা হবে এবং ফটোকপি করে দুপুর ২টার মধ্যে পাঠানো হবে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এর ইংরেজি সিলেবাস

ইংরেজিঃ
গ্রামারে Right forms of verb, Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction- এর নিয়ম জানতে হবে এবং গ্রামার বইয়ের উদাহরণ থেকে চর্চা করতে হবে। মুখস্থ করতে হবে Phrase and Idioms, Synonym, Antonym. ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ আসতে পারে। তাই বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করলে ভালো করা সম্ভব।
.
বিগত পরীক্ষায় ইংরেজি থেকে যা এসেছে :

বিগত দুই পর্যায়ের পরীক্ষায় ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ এসেছে। গ্রামারে Right forms of verb, Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction থেকে প্রশ্ন এসেছিল।

মোট_মার্ক : ৮০
সময়: ১ ঘন্টা ২০ মিনিট
প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ মার্ক এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।
বাংলা-২০,ইংলিশ-২০,গণিত-২০,সাধারণ জ্ঞান+দৈনন্দিন বিজ্ঞান+কম্পিউটার-২০

এবার জেনে নেয়া যাক কোন টপিকস গুলোতে হিট করলে পরীক্ষায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে…..

বাংলা ও ইংলিশের জন্য যেকোন সিরিজের বই(নতুন সংস্করণ) থেকে শুধু মাত্র চ্যাপ্টারের শেষে যুক্ত বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন গুলি সলভ করবেন বিস্তারিত পড়ার সময় নাই।তাছাড়া প্রশ্ন ডিরেক্ট কমন পড়বে অযথা প্রেসার নেবার দরকার কি!

বাংলা: সন্ধি(২),বিপরীত শব্দ(২/৩),সমার্থক শব্দ(২),শুদ্ধ বানান(২),এককথায় প্রকাশ(২),সমাস(২),বাগধারা(২), কারক-বিভক্তি,ছদ্মনাম/উপাধি,দ্বিরুক্ত শব্দ,ধ্বনি,বর্ণ,বাক্য(সরল,জটিল,যৌগিক),পদ নির্ণয়।
প্রচীন যুগ,মধ্যযুগ* থেকে ১ অথবা ২ মার্কস আসতে পারে তবে মধ্যযুগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ,আধুনিক যুগের সাহিত্য কর্মের মধ্যে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস/রচনাসমগ্র(১/২ মার্কস)এবং পরিচিত কবি সাহিত্যিকের রচনা বা জন্ম মৃত্যু নিয়ে ১/২ মার্কস আসতে পারে যেগুলো পারার মত।

ইংলিশ: যেকোন সিরিজের বই থেকে পড়লেই চলবে তবে English For Competitive Exams বইটিতে বিগত সালের প্রশ্ন বেশি থাকায় এটাই বেস্ট বই।

Right form of verb,Fill in the blank with appropriate word/preposition(2), Voice Change (1/2),Narration(1), Sentence Correction(2),
Spelling (2),Parts of speech Identification(2),Synonym+antonym(3/4),Idioms & Phrase.

গণিত:

দশমিকের (যোগ,বিয়োগ,গুণ*,ভাগ*),শতকরা,লাভ-ক্ষতি,মুনাফা,ল.সা.গু,গ.সা.গু,ঐকিক নিয়ম(কাজ,খাদ্য,সৈন্য),অনুপাত:সমানুপাত,সংখ্যা পদ্ধতি, বীজগাণিতিক মান নির্ণয়,উৎপাদক নির্ণয়,গড়,মধ্যক,প্রচুরক নির্ণয়,ত্রিভুজক্ষেত্র,বর্গক্ষেত্র,
আয়তক্ষেত্রের বেসিক সূত্রের অংক সমূহ,সরলরেখা,ধারা,গাছের উচ্চতা/মিনারের উচ্চতা/মইয়ের দৈর্ঘ্য /সূর্যের উন্নতি কোন ইত্যাদি বিষয়ক অংক সমূহ।

সাধারণ_জ্ঞান ও দৈনন্দিন_বিজ্ঞান_ও_কম্পিউটার

এই অংশে ভাল করার জন্য খুব বেশি পড়তে হবেনা।সাধারণ জ্ঞান অংশে ১৪/১৫ টার মত প্রশ্ন আসতে পারে তার ভিতর ১০-১২ টাই হবে সালের রিপিট প্রশ্ন।বাকী ২/৩ টা সাম্প্রতিক বিষায়াবলী দিতে পারে।
তারপরও ভাষা আন্দোলন,মুক্তিযুদ্ধ,বাংলাদেশের জনপদ,নদ-নদী,বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য অন্তর্জাতিক সংগঠন,জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন,বিশ্বের বিভিন্ন শহরের নাম ইত্যাদি….

বিজ্ঞান থেকে দু’তিনটি কমন প্রশ্ন আসবে যেগুলো চোখের পলকে গোল্লা ভরাট করা যাবে মানে হরহামেশা রিপিটেড সাল।কম্পিউটার থেকে একটি বা দু’টি প্রশ্ন আসবে একেবারে বেসিক কম্পিউটার থেকে। নিজের মগজের সফটওয়্যার থেকে কম্পিউটারের বৃত্ত ভরাট করবেন।
এই সিলেবাস শেষ করতে ৭-৮ দিন লেগে যাবে।তারপর ১০ তারিখ পর্যন্ত প্রাইমারী শিক্ষক নিয়োগ ও NTRCA ‘র বিগত সালের প্রশ্ন গুলো শরবতের মত গুলিয়ে খাবেন ব্যাস কেচ্চা খারিজ হয়ে যাবে।
অরো যদি একদিন সময় পান তবে ২০১৭ সালের প্রশ্ন গুলো দেখতে পারেন।

এগুলো সম্পূর্ণ আমার ধারণা থেকে বললাম।প্রশ্ন এগুলোর উপর না আসলেও কনফিডেন্স পাবেন।

“সাজেশন পরীক্ষার কোন প্রশ্ন নয় শুধু ব্যক্তির অনুমান মাত্র।”

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি- যেভাবে নিবেন প্রস্তুতিঃ

বর্তমানে দেশের শিক্ষিত বেকারদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি চাকরি। কারন একটি চাকরির সাথে জড়িয়ে আছে আপনার জীবনের অনেককিছু। চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে যারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করতে চান তারা কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন আজ তা নিয়ে লিখছি।

এই পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০, এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার নম্বর ৮০ আর মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২০। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। বিষয় গুলো হচ্ছে বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০ টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে।

প্রতিটি প্রশ্নের মানঃ

১। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ চারটি উত্তর ভুল হলেই প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১ নম্বর কাটা যাবে।
আপনাকে প্রতিটি বিষয়ের জন্যই আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। আপনি যদি ৮০ এর মধ্যে ৭০+ নম্বর পান তাহলে আপনি সেইফ থাকবেন। তাই প্রস্তুতি নিতে হবে ভালভাবে। কোন অবহেলা করা যাবেনা। কারন আপনাকে কয়েক লক্ষ প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে আর একটি চাকরির সাথে আপনার জীবন ও ভবিষ্যৎ জড়িত।

কি কি পড়বেন ও কিভাবে পড়বেনঃ

বাংলাঃ প্রথমেই আসি বাংলা নিয়ে। বাংলা অংশে ব্যাকরণের ওপর বেশি জোর দিতে হবে। অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড প্রণীত ব্যাকরণ বইয়ের সব অধ্যায় উদাহরণসহ ভালোভাবে পড়তে হবে। জানতে হবে কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম ও জীবনী সম্পর্কে। এসএসসি বোর্ড বইয়ের লেখক পরিচিতি বা সাহিত্যিক পরিচিতি অংশ পড়লে অনেকটা সহায়ক হবে। পিএসসি নির্ধারিত ১১ জন সাহিত্যিক সম্পর্কে পড়বেন। ব্যাকরণ থেকে ভাষা, বর্ণ, শব্দ, সন্ধি বিচ্ছেদ, কারক, বিভক্তি, উপসর্গ, অনুসর্গ, ধাতু, সমাস, বানান শুদ্ধি, পারিভাষিক শব্দ, সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকে প্রশ্ন আসে। সাহিত্য অংশে গল্প বা উপন্যাসের রচয়িতা, কবিতার লাইন উল্লেখ করে কবির নাম থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
এই সব গুলো বিষয় বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বই থেকে বা অন্য যে কোন গাইডে গুছিয়ে দেওয়া আছে। সেখান থেকে পড়তে পারেন।

ইংরেজিঃ ইংরেজি গ্রামারের Right forms of verb, Tense, Preposition, Parts of Speech, Voice, Narration, Spelling, Sentence Correction- থেকে প্রশ্ন আসে। Advance Learners by Chowdhury and Hossain বা অন্য যে কোন গ্রামার বই থেকে গ্রামারের এই টপিকস গুলো উদাহরণসহ পড়ুন। মুখস্থ করতে হবে Phrase and Idioms, Synonym, Antonym।
ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদও পড়তে হবে। এজন্য ২০১৫-১৮ সালের বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করতে পারেন। বিসিএস প্রিলিমিনারি ডাইজেস্ট বইয়ের ইংরেজি অংশটুকু ভালভাবে পড়তে পারেন।

গণিত :

এই অংশে মার্কস পাওয়া তুলনামূলক ভাবে সহজ। প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা গণিত প্রাকটিস করা দরকার। পাটিগণিতের পরিমাপ ও একক, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, শতকরা, সুদকষা, লাভক্ষতি, ভগ্নাংশ থেকে প্রশ্ন আসে। বীজগণিতের সাধারণ সূত্রাবলী থেকে প্রশ্ন থাকে। মুখে মুখে ও সূত্র প্রয়োগ করে সংক্ষেপে ফল বের করার প্র্যাকটিস করতে হবে। যাতে প্রশ্ন দেখা মাত্রই সূত্র প্রয়োগ করে ফল বের করা যায়। জ্যামিতির জন্য ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, বৃত্ত ইত্যাদির সাধারণ সূত্র ও সূত্রের প্রয়োগ প্রাকটিস করবেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যবই যেমন অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করলে ভালো হবে।
ডাইজেস্ট থেকে গণিত অংশটুকু ভালভাবে বুঝে শেষ করবেন।

সাধারণ_জ্ঞানঃ

বাংলাদেশ বিষয়াবলী থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষা, ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু, সভ্যতা ও সংস্কৃতি, বিখ্যাত স্থান, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা, অর্থনীতি, বিভিন্ন সম্পদ, জাতীয় দিবস থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

আর আন্তর্জাতিক অংশে বিভিন্ন সংস্থা, দেশ, মুদ্রা, রাজধানী, দিবস, পুরস্কার ও সম্মাননা, খেলাধুলা থেকে প্রশ্ন থাকে।
আর সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য মাসিক কারেন্ট এফিয়ার্স পড়তে পারেন।

সাধারণ বিজ্ঞান থেকে বিভিন্ন রোগব্যাধি, খাদ্যগুণ, পুষ্টি, ভিটামিন থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

কম্পিউটার ও আইসিটি থেকেও প্রশ্ন থাকে। আপনি কম্পিউটার ও আইসিটির বেসিক বিষয় গুলো ভালভাবে আয়ত্ব করবেন।

বিজ্ঞান, আইসিটি ও কম্পিউটার এর জন্য ২০১৫-১৮ সালের বিভিন্ন পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন গুলো ভালভাবে পড়লে বেশ কিছু কমন পেতে পারেন।

পরের পরামর্শ গুলো শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্যই নয়। যে কোন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ২য় শ্রেণি চাকরির জন্যও প্রযোজ্য। এইভাবে পড়লে আশা করি আপনি প্রিলিতে ভাল নম্বর পাবেন। তবে আপনি চাইলে যিনি আরো ভাল জানেন বা নিজের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে যেভাবেই নেন না কেন আপনাকে পড়তে হবে পরিশ্রম করতে হবে। ৩০ বছর যে চাকরি করে আপনার জীবন চলবে সেই চাকরির জন্য অন্তত ৩০ দিন দৈনিক ১৬ ঘণ্টা করে পড়ালেখা করুন। শুধুমাত্র সরকারি জবের পেছনে না ছুটে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি জবের জন্যও চেষ্টা করুন।

পড়ুন, পরিশ্রম করুন এবং পড়ুন।

আপনি কি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন ?
পরীক্ষা_পদ্ধতিঃ

প্রাথমিক সহকারীশিক্ষক এবং প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগপরীক্ষার বিষয়বস্তু বিগত বছরের মতো থাকলেওএবার প্রশ্নের মান উন্নত হবে। আগে লিখিত পরীক্ষায় মাধ্যমিক পর্যায় থেকে প্রশ্ন করা হলেও এবার উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় থেকেও প্রশ্ন আসবে। ৮০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষাসহ মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে বহু নির্বাচনী বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে। প্রশ্ন করা হবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান-এই চারটি বিষয়ে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২০টি করে মোট ৮০টি এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১।সাবধান, নেগেটিভ মার্কিং মানবণ্টনে পরিবর্তন না এলেও এবার চালু হচ্ছে নেগেটিভ মার্কিং। একটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর। ফলে চারটি প্রশ্নের ভুল উত্তর দিলে ১ নম্বর কাটা যাবে। তাই নিশ্চিত না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ঠিক হবে না।অনেক সময় সঠিক উত্তর জানা থাকলেও বৃত্ত ভরাটের সময় অসাবধানতাবশত ভুল উত্তর দাগিয়েফেলেন। একটুখানি সতর্ক হলেই এ ভুল এড়ানো যায়।এমসিকিউ প্রশ্নের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৮০ মিনিট।অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নে পাওয়া যাবে এক মিনিট। ২০১২সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কৃষ্ণ অধিকারীর পরামর্শ, যেপ্রশ্নগুলো সহজেই উত্তর করা যায়, তা শুরুতেইদাগিয়ে ফেলতে হবে। কোনো প্রশ্নে বেশি সময় নষ্ট করা যাবে না, কঠিন প্রশ্নগুলো রেখে দিতে হবে পরে উত্তর করার জন্য। অনুমান নির্ভর উত্তরের চেয়ে না দাগানোই ভালো। তবে চারটি অপশনের মধ্যে দুটি ভুল উত্তর বের করতে পারলে বাকি দুটির মধ্যে একটি বেছে নেওয়া যেতে পারে। জানা প্রশ্নেও অনেকে কোনটির উত্তর করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন অনেকে। প্রথমবার যেটি সঠিক বলে মনে হয়, উত্তর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা সেটির বেশি! বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন সমাধান করলে কাজে দেবে।নিজেকে যাচাইয়ের জন্য বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নও দেখতে পারেন।

বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণঃ

উল্লেখযোগ্য কবি-সাহিত্যিকদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে। গল্প, কবিতা বা উপন্যাসের রচয়িতা থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। ব্যাকরণ অংশে শব্দ, পদ, কারক-বিভক্তি, প্রকৃতি-প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস, শুদ্ধ বানান পড়তে হবে। পারিভাষিক শব্দ, বিপরীত শব্দ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে। কৃষ্ণ অধিকারী জানান, সন্ধি, সমাস, কারক থেকে প্রতিবছরই প্রশ্ন থাকে, এগুলো প্রশ্নে একপলক দেখামাত্রই যেন উত্তর করা যায় সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য বোর্ড প্রণীত নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ের সবঅধ্যায়ের পাঠ এবং উদাহরণ শিখতে পারলে ভালো হয়।

ইংরেজিঃ

২০১২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত রনি হাসান জানান, বেসিক গ্রামার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। পড়তে হবে Preposition, Antonym, Synonym, Parts of Speech, Tense, Spelling, Right forms of verb, Transformation,Voice, Narration । সাধারণত Spelling, Right forms of verb, Antonym, Synonym থেকে প্রশ্ন বেশি আসে।  বিগত কয়েক বছরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেখলে বেশ ভালো ধারণা পাওয়া যাবে। চারটি Preposition থেকে শূন্যস্থানে. কোনটি বসবে, গ্রামারের বিচারে কোন বাক্যটি শুদ্ধ, কোনটি সঠিক Indirect Speech -এ ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই আসে। অনুশীলনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ গাইড, প্রফেসরস জব সল্যুশন এবং ভালো মানের গ্রামার বই পড়তে পারেন। আর খাতায় গুরুত্বপূর্ণ শব্দ লিখে চর্চা করলে কাজে লাগবে।

গণিতঃ

গণিতের সমাধান বের করতে অনেকে বেশি সময়নিয়ে ফেলেন। এ ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।  পুরনো পাঠ্যক্রমের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করতে হবে। দেখে যেতে হবে এইচএসসি পর্যায়ের বইও। সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নেওয়া যাবে না। সাধারণ ক্যালকুলেটর নেওয়া গেলেও সময় স্বল্পতারকারণে সব সময় ব্যবহার করতে যাওয়াটা বোকামি।গণিতের প্রস্তুতি এমনভাবে নিতে হবে যেন মুখে মুখেই অঙ্কের বেশির ভাগ সমাধান করে নেওয়া যায়, বারবার চর্চা করলেই এটা সম্ভব। সুদ-কষা, ঐকিক নিয়ম, লাভ-ক্ষতি, ভগ্নাংশ, ধারাপাত এবং বীজগণিতের প্রথম পর্যায়ের কিছু অঙ্ক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। অনেক সময় দশমিকের গুণ, ভাগ থাকে। জ্যামিতির সাধারণ সূত্র ও সংজ্ঞা থেকেও প্রশ্ন আসে।

সাধারণ_জ্ঞানঃ

সাম্প্রতিকে জোর বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অভ্যুদয়ের ইতিহাস, জাতীয় বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন আসে। আন্তর্জাতিক অংশে দক্ষিণ এশিয়া এবং এশিয়া সম্পর্কিত প্রশ্ন বেশি দেখাযায়। খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, পুরস্কার, দিবস ইত্যাদি থেকে প্রশ্ন আসে। সাধারণ বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট প্রশ্ন যেমন বিভিন্ন আবিষ্কার,রোগব্যাধি, বিভিন্ন খাদ্যগুণ, কম্পিউটার, তথ্য ওযোগাযোগ প্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য আজকের বিশ্ব, এমপিথ্রি, নতুন বিশ্ব পড়তে পারেন , সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রশ্ন বেশি থাকে। বিশেষত এক বছরের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য পড়তে হবে সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বা কারেন্ট ওয়ার্ল্ড।

মৌখিক_পরীক্ষাঃ

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরই শুধু মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে।  মৌখিক পরীক্ষায় থাকবে ২০ নম্বর। একাডেমিক ফলাফল বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর থাকবে ৫ নম্বর। এক্সট্রা কারিকুলাম (নাচ, গান, অভিনয়, আবৃত্তি) এর ওপর বরাদ্দ থাকবে ৫ নম্বর।বাকি ১০ নম্বর থাকবে সাধারণ জ্ঞানের ওপর। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের জন্যপ্রার্থীর নিজ জেলার থানা বা উপজেলার আয়তন,জনসংখ্যা, সংস্কৃতি, জেলার ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভালো করা যাবে।