চাকরি হয় না! সব চাকরির টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছে!! এমন হাজার প্রশ্ন

চাকরি হয় না! সব চাকরির টাকা দিয়ে কিনে নিচ্ছে!! সরকারি চাকরি পেতে হলে হাজার হাজার টাকা দিতে হয়!!!

চাকরি হয় না কেন এমন হাজারো প্রশ্ন!

হুম, বুঝলাম চাকরি হয় না। কেন হবে? আপনি নিজেকে কতটুকু প্রস্তুত করছেন চাকরির জন্য সেটি আগে ভেবে দেখুন। সরকারি চাকরি করতে হলে যেমন মেধাবী হতে হয় তেমন হতে হবে স্মার্ট। শুধু মেধা দিয়ে কখনও চাকরি হয় না মানে বস্তা বস্তা বই কিনলে চাকরি হয় না! হলেও নিন্ম পজিশনে হয় যা দিয়ে শুধু নিজেকে চালানো যায় কখনও পরিবারকে না।

আর স্মার্ট বলতে স্ট্রং বডিওয়ালা প্যান্টশার্টকে বুঝায়নি। মানে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের মধ্যে যেগুলো আপনাকে স্মার্ট করে তুলে সেগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আবার এই ভেবে বসে পড়িয়েন না তার জন্য আপনাকে রোবটের মতো হতে হবে । মানে চাকরির জন্য যে পজিশনে আপনি আবেদন করেছেন তার জন্য যথেষ্ট হতে হবে। তাহলে স্মার্ট বলা যায়।

চাকরির পরিবেশে যেকোনো একটি বিশেষ জায়গায় আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাকে বলা যায় স্মার্টনেস।

এবার বলুন, এই পর্যন্ত কয়টি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন? 90% বেকারের মধ্যে পরীক্ষা দেওয়ার প্রবণতা নেই। মানে তারা বছরে একটা পরীক্ষা দেয়। আর সেটি দিয়ে তারা নিজেকে চাকরির হয় না বলে চালিয়ে দিচ্ছে।

এবার আসি, যারা চাকরির পরীক্ষা দিয়েছে তাদের কাছে। মানে ১০০% এর মধ্যে যে ১০% চাকরির পরীক্ষা দিয়েছে তাদের মধ্যে কয়জন আছেন ভালো করে প্রিপারেশন নিয়েছে? তার মধ্যে ২% মোটামুটি একটি প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। এবার এদের মধ্যে ৫০% ভাইভা বোর্ডে যায় মানে প্রতি ২জনে ১ জন। এদের মধ্যে ১ জনের ৫০% ভাইভা বোর্ডে ঠিকে যায়। এবার ভাইভা বোর্ডে যারা ঠিকছে তাদের মধ্যে বিভিন্ন জটিলতার কারণে তাদের ৩০% চাকরিতে অংশগ্রহণ করতে পারে না সেটি বে-সরকারি চাকরি হোক বা সরকারি চাকরি হোক।

ধরুন, ১০% এর মধ্যে যারা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের যে ৮% রয়ে গিয়েছে তারা এবার নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার জন্য অসদ উপায় খুঁজতে থাকে কারণ তাদেরকেও বাঁচতে হবে । তাদের মধ্যে প্রায় ৫০% অসদ উপায় পেতে সক্ষম হয়। যাদের মধ্যে ১% চাকরি পায়। আর ৯৯% চাকরি না পেয়ে দিশাহারা হয়ে বেকারত্বের পথ আরো ক্লিয়ার করে দেয়।

যারা চাকরির জন্য আবেদন করেন তারা যখন তাদের সিভি পাঠায় তখন সিভি গ্রহণ করার মতো কোনো কিছু থাকে না। মানে যে পোস্টের জন্য আপনি সিভি পাঠিয়েছেন সেটি আপনার সিভির মধ্যে কোনো উল্লেখ্য নেই। যদি সিভি ভালো হয়েছে। আবার যাদের সিভির মধ্যে যোগ্যতা আছে কিন্তু সিভি বা রিজিউম দেখলে বমি আসে। মানে সিভির গঠন কাঠামো এমন খারাপ যা দেখে আপনাকে ভাইভা বোর্ডে ডাকবে এই আসা করা একান্ত বোকামির কাজ।

তাই সিভি বানানোর ক্ষেত্রে দক্ষ হতে হবে। অর্থাৎ সিভি বানাতে হবে চাকরির পজিশন ও কোম্পানির প্রোফাইল যাচাই বাচাই করে মানে আপনি তাদেরকে রিড করতে হবে। তবে দুঃখের সাথে বলতে হয় যে এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষিত সমাজ খুবই উদাসীন।

ফলে একই পোস্টের জন্য একটি অধিদপ্তর বার বার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। কারণ আপনার যথেষ্ট মেধা থাকা স্বত্তেও শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে না ভাবার কারণে আপনার চাকরি হয় নি। মানে আপনি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেন নি।😉

আর যাদের প্রস্তুতি ভালো ছিলো কিন্তু পজিশন বা পোস্টকে রিড না করে ভাইভা বোর্ডে চলে গিয়েছে তারা চাকরি পায় না। তারা সারা জীবন চাকরি না পাওয়ার মধ্যে থেকে যায়।😭

এটা গেল চাকরি প্রত্যাশীদের কথা। এবার আশা যাক কোম্পানি বা অরগানিজেশনের দিকে। বেশিরভাগ কোম্পানির কর্মকর্তারা কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত। তারা কোম্পানির জন্য আর যায় করুক না কেন তারা অন্তত নিজেদের পকেট পুরাতে সক্ষম। এক্ষেত্রে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বেশি জানে এই কাজটি। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত পাত্রি নিয়োগ দেওয়া হয় না। যারা মেধাবী তাদেরকে যদি সে কোম্পানিতে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে সে কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদ দখল করে নিতে পারে। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দক্ষ লোক নিয়োগ হয় না।

আর যারা নিয়োগ হয় তাদেরকে কোম্পানির প্রধান বা কোম্পানির মালিক খোঁজখবর রাখে না । তাই সে তার কোম্পানিকে কিছু দিতে পারে না। ফলে যেমন তার কোম্পানির ক্ষতি হয় তেমনি দেশের অর্থনীতিতে দস নামে। দেশ ও জাতি হয়ে পড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত।

আর যারা চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে যান তারা যদি মেধা খাটিয়ে নিজে কিছু করতে পারে তাহলে দেশ ও জাতি অলস হবে না। মানে যদি মাটির পাতিল নিয়েও কাজ করেন তাহলে অন্তত পেটে এক থালা ভাত পড়বে যদিও সেটি নিরামিশ বা কাঁচা লঙ্কার স্বাধযুক্ত।

আর চাকরি পেতে হলে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে, হতাশ হয়ে নই। সিস্টেম পালটাতে হলে আগে নিজেকে ঐ পজিশনে নিতে হবে।

সরকারি পেয়ে যারা ভাবছেন বসে বসে খাবেন তাদের জন্য এক বালতি দুঃখ ছাড়া জাতি কিছু দিতে পারবে না। কারণ তাদের উদ্দেশ খারাপ ছিলো।

যাহোক, উপরোক্ত সব কথা এবং যুক্তি মনগড়া বা অযুক্তি মনে হতে পারে। যদি কোনোভাবে যুক্তি মনে হয় তাহলে কারো গায়ে নিবেন না। একটি শুধু একটি ব্যক্তি মনোভাব।

আর কারো উপকার হলে তারা কোনো মোটিভেশন না খুঁজে হতাশা দূর করে নিজের জন্য ভেবে প্রতিদিনের কাজটি করুন। তাহলে বেকারত্ব দূর হবে।

–এসএইচ সোহেল। (জিজ্ঞাসা.কম)।

আরো পোস্ট দেখতে পারেন:

  1. প্রাথমিক শিক্ষক প্রস্তুতি
  2. ব্যাংক জব প্রস্তুতি
  3. বিসিএস প্রস্তুতি
  4. প্রতি মাসের সাধারণ জ্ঞান 
  5. চাকরির খবর
  6. যেকোনো শ্রেণির গণিত সাজেশান 

কপিরাইট পলিসি: আমাদের কিছু সংখ্যক পোস্টগুলো অনলাইনের প্লাটফর্ম থেকে সংগ্রহিত। এর মধ্যে আমাদের একটি সৎ উদ্দেশ্য আছে । তাহলো আমরা চাচ্ছি সব কিছু যে এক জায়গায় পাওয়া যায়। তাছাড়া এগুলোর মধ্যে কোনো কোন পোস্ট যদি কেউ নিজের সম্পত্তি মনে করেন তা অবশ্যই যথোপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে । ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য।